গুগল ড্রাইভ হতে পারে আপনার ডাটা স্টোর করার সবছেয়ে নিরাপদ মেমরি

Google Drive

ডাটা স্টোর করার জন্য আমরা সবছেয়ে বেশি নিরাপদ মনে করি মেমরি কার্ড কে। আবার অনেকে কম্পিউটার এর হার্ড ডিস্ক অথবা এক্সটারনাল হার্ড ডিস্ক কে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। হার্ডিস্ক কিংবা মেমরি তো যেকোন সময় নস্ট হতে পারে ফলে আপনার অনেক গুরুত্ব পুর্ন ফাইল ডিলেট হতে পারে। এর ফলে আপনি অনেক চিন্তায় পড়তে পারেন। কিংবা আপনার চাকরি ও চলে যেতে পারে। যারা এই সমস্যার মুখোমুখি হন নি তাদের কথা আলাদা কিন্তু ফিউচার যেকোন সময় আপনি আমি সবাই এই সমস্যায় পড়তে পারি। তাই আগে বাগে কিছু টেকনিক জানা থাকলে আপনি এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পেতে পারেন। হয়ত ডাটা রিকভার করার জন্য আপনি অনেক সফটওয়ার ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু ততক্ষনে আপনার পকেট থেকে অনেক গুলো টাকা হাওয়া হয়ে যাবে। আমি জানি এরকম সমস্যায় পড়েন নি তা খুব কম সংখ্যাক লোকই আছে। যা হোক এবার আসল কথায় আসি আমরা একটু সচেতন হলেই কিন্তু এই ঝামেলা হতে মুক্তি পেতে পারি। আপনার গুরুত্ব পুর্ন ফাইল স্টোর করার জন্য গুগল ড্রাইভ হতে পারে সবছেয়ে নিরাপদ মেমরি।

গুগল ড্রাইভ কি?

গুগল ড্রাইভ হচ্ছে বর্তমানের আধুনিক জমানার সবছেয়ে নিরাপদ ফাইল স্টোর করার জায়গা। গুগল প্রতিটি জিমেইলের বিপরীতে ১৫ জিবি পর্যন্ত ফাইল ফ্রিতে রাখার জন্য আপনাকে দেয়। আপনি চাইলে আরো বেশি স্পেস কিনে নিতে পারেন এই জন্য আপনাকে তাদের পে করতে হবে। এরকম আরো অনেক সাইট আছে যারা টাকার বিনিময়ে আপনার ফাইল গুলো স্টোর করার সুযোগ করে দেয়। তবে আমি যেহেতু গুগল ড্রাইভ ইউজ করি তাই এই সম্পর্কে আমার এক্সপেরিয়েন্স অনেক ভাল। এটি অনেক নিরাপদ এবং সহজে ইউজ করা যায়। এর জন্য বেশি কিছু লাগেনা শুধু মাত্র একটি জিমেইল থাকলে হয়। এই একটি জিমেইল এর সাহায্য আপনি ১৫ জিবি ডাটা ফ্রিতে স্টোর করার সুযোগ পাবেন। এরকম আরো অনেক ড্রাইভ আছে যাদের বলা হয় ক্লাউড স্টোরেড কোম্পানী। তাদের মধ্যে সময়ের সেরা ক্লাউড স্টোর গুলো নাম হল-মাইক্রোসফট ওয়ান ড্রাইভ, বক্স ক্লাউড স্টোর, কপি, হাই ড্রাইভ, আম্যাজন ক্লাউড ড্রাইভ অন্যতম। ক্লাউড ড্রাইভ গুলো সম্পর্কে আরো বেশি জানতে ক্লিক করুন এইখানে

কেন গুগল ড্রাইভে আপনার গুরুত্ব পুর্ন ডাটা স্টোর করবেন?

গুগল ড্রাইভে ডাটা স্টোর করার অনেক গুলো সুবিধা রয়েছে। কি কি সুবিধা এবং অসুবিধা আপনার উপভোগ করতে পারবেন তা নিচে আপনার সুবিধার্তে দেওয়া হল।

সুবিধা সমুহঃ

১। এই ক্লাউড স্টোরে ডাটা রাখলে তা মুছে যাওয়ার ভয় থাকেনা।

২। মেমোরির ডাটা রাখলে যেকোন সময় তা করোপ্টেড হতে পারে বা মেমোরি নষ্ট হতে পারে এক্ষেত্রে সেই ভয় একেবারে নাই বললেই চলে।

৩। আপনার ফোন মেমরি কিংবা ফোন যেকোন সময় নষ্ট হতে পারে বা হারিয়ে যেতে পারে কিন্তু ক্লাউড স্টোরেজ নষ্ট হওয়ার ভয় থাকেনা।

৪। এটি দেখা যায়না তাই কেউ শত্রুতা করে আপনার মোবাইল কিংবা আপনার মেমরি চুরি করতে পারে, ক্লাউড স্টোর চুরি কিংবা নষ্ট করা যায় না।আপনার একাউন্ট আপনার শক্ত পাসওয়ার্ড দ্বারাই সব সময় সেভ থাকে।

৫। একটি বেশিদিন স্তায়ী হয়তা কিছুদিন পরপর তা নষ্ট হয়ে যায়। ক্লাউড স্টোরেজ কখনো সেটা হয় না।

৬। আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমান মেমরি কিনে শুধু সে পরিমান ইউজ করতে পারবেন কিন্তু ক্লাউড স্টোরেজ বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য শুধু বাড়তি টাকা পে করলেই চলবে এই সীমা কখনো নির্দিষ্ট নয় আপনি চাইলে বাড়তি টাকা দিয়ে এটি বাড়িয়ে নিতে পারবেন যেকোন সময়।

অসুবিধাঃ

১. এই স্টোরেজের সবছেয়ে বড় অসুবিধা হল আপনি যদি আপনার ইমেইল বা ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড ভুলে যান তাহলে আপনার স্টোর করা তথ্য সব হারাতে হবে। তবে যদি রিকভার আইডি দিয়ে থাকেন তবে আপনার ইউজার আইডি রিকভার করতে পারবেন।

২. এটি আপনি স্মার্টফোন অথবা কম্পিউটার ছাড়া ব্যবহার করতে পারবেন না।

৩. গুগলে ১৫ জিবি পর্যন্ত আপনি ফ্রি ডাটা স্টোরেজ করার সুযোগ পাবেন একটি একাউন্ট এর মাধ্যমে এর বাড়তি স্পেস চাইলেই আপনাকে টাকা পে করতে হবে।

৪. হ্যাকার যদি কোন রকমে আপনার পাসওয়ার্ড জেনে যায় তবে সবকিছু যেকোন সময় চুরি করে ফেলতে পারে এবং আপনার গোপন ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিতে পারে যা আপনার জন্য চরম বিব্রতকর পরিস্তিতি তৈরি করতে পারে। তবে ভাল মানের এন্টি ভাইরাস ইউজ করলে এটা এড়ানো সম্ভব।

ক্লাউড স্টোরেজ বা গুগল ড্রাইভে কিভাবে ডাটা স্টোর করবেন বা জমা রাখবেন?

গুগল ক্লাউড স্টোরে বা গুগল ড্রাইভে কোন কিছু রাখার জন্য সবার আগে দরকার আমাদের একটি জিমেইল একাউন্ট। আশাকরি এটা সবাই পারবেন আমরা দেখাব কিভাবে গুগল ড্রাইভে কিভাবে কোন কিছু সেভ করে রাখতে হয়। এই জন্য প্রথমে আপনার জিমেইল দিয়ে লগইন করে নিন।

গুগুলে সাইন ইন করার জন্য আপনার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিন। সাইন ইন হয়ে গেলে আপনি নতুন ইন্টার ফেস পাবেন।

গুগল ড্রাইভ

লাল মার্ক করা ডট ডট অপ শনে ক্লিক করলে গুগলের সবগুলো এপ্স দেখতে পাবেন সেখান থেকে গুগল ড্রাইভ ওপেন করুন। যদি আপনার আগে এক্সেস না থাকে তবে এক্সেস নিয়ে নিন। এবার গুগল ড্রাইভ ওপেন হবে সেই সাথে আপনার কাজ ও শেষ এবার আপনার ভিডিও অডিও এবং সব রকমের ডকুমেন্ট আপলোড করুন। হয়ে গেল আপনার স্টোরে সব স্টোর করার কাজ এবার যখন যা ইচ্ছা আপনি ওখান থেকে দেখতে পারবেন। ফিজিকেল মেমরির কোন ঝামেলা আর করতে হবেনা।

এইবার তাহলে দেখে আসুন আমি কিভাবে আমার সব ফাইল আজ ১০ বছর ধরে সেভ করছি তাই দেখুন। ডিলেট হওয়ার ভয় নাই মেমরি নষ্ট হওয়ার ভই ছাড়াই।

আমি আমার ফাইল গুলো খুব একটা সুন্দর ভাবে সাজাই নি কিন্তু আপনি আপনার প্রতিটি ফাইল বা ভিডিও সুন্দর করে সাজিয়ে নাম দিয়ে রাখবেন তাহলে খুজে পেতে খুব সহজ হবে। কি বন্ধুরা শিখা হল তো কিভাবে গুগল ড্রাইভ কে আপনি মেমরি হিসাবে ইউজ করতে পারেন। না বুজলে কিন্তু কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Shares