যেভাবে নিশ্চিত হবেন আপনার মোবাইল ভাইরাস আক্রান্ত

virus images

ভাইরাস একটি আতঙ্কের নাম। মোবাইলে ভাইরাস অনেকের অজানা বিষয়। ইন্টারনেটের এই সময় যেকোন সময় আপনার মোবাইল ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারে যেকোন ম্যলওয়ার দ্বারা। মোবাইলে ভাইরাস কি? তা দ্বারা আপনার মোবাইলের কি কি ক্ষতি হতে পারে? আপনি কিভাবে এই জিনিস থেকে আপনার মোবাইল কে সুরক্ষিত করবেন। আজকের এই লিখায় সবকিছু জানতে পারবেন। পুরো লিখাটি পড়লে কিভাবে তা থেকে পরিত্রান পাবেন তার বিষয়ে বেশ ভালভাবে জানতে পারবেন।

Advertisement

আমরা এমন কিছু ব্রাউজ ব্যবহার করি যার ফলে ওই ব্রাউজ গুলোতে অনেক উল্টো পাল্টো লিংক থাকে। আর আমরা না বুঝে ওই লিংক গুলোতে ক্লিক করে আর ওই লিংক গুলোতে ক্লিক করার ফলে আরও উল্টো পাল্টো সাইটে নিয়ে যায়। আর এখান থেকে অনেক কিছু ডাউনলোড হয়ে যাচ্ছে আপনি কিছু করার আগেই, আর এগুলোর সাথে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার ঢুকে যাচ্ছে যা আপনি বুঝতেই পারছেন না। এখন এই যে লিংক গুলোতে ক্লিক করে আপনি যে উল্টো পাল্টো সাইটে প্রবেশ করছেন সেগুলোর মধ্যে কোনটি সেভ তা বুঝার একটা সহজ রাস্তা আছে। যে সাইটের Address এ Https আছে সেটি আসলে আপনার জন্য নিরাপদ। আর যেসব সাইটে এই Https নেই সেই সাইট গুলো থেকে আপনাকে দূরে থাকা উচিত।

প্রথমে জেনে নিই ভাইরাস কি?

ভাইরাস হলো এক ধরনের প্রোগ্রাম যা দক্ষ প্রোগ্রামার দ্বারা তৈরি হয়। সাধারনত হ্যাকার বা দক্ষ প্রোগ্রামার এই ভাইরাস তৈরি করে। এগুলো অন্যের ক্ষতি বা অন্যের ডাটা চুরি বা অন্যকে নজরদারি করার জন্য এই ধরনের ভাইরাস গুলো খুব দক্ষতার সাথে তৈরি করা হয়। বিষয়টি আরো ভাল ভাবে বুঝানোর জন্য আমি আপনাকে একটি উদাহরন দিতে যা আমার বন্ধুর জীবনে ঘটেছিল।

নতুন মোবাইল কিনে আমার বন্ধুটি ইউজ করছিল। একদিন দেখল তার মোবাইল ভালভাবে কাজ করছিল না। সে ইমুতে মেসেজ করত তার বউকে কিন্তু তার একই নাম্বার থেকে অনেক গুলো আজে বাজে মেসেজ ছবি আরো অনেক কিছু তার সেন্ড হচ্ছিল। কিছুতেই বুজতে পারছেনা কিভাবে এটি সংঘটিত হল। তার মোবাইলের বিকাশ পিন চুরি করে যা টাকা ছিল সব বের করে নিয়েছিল হ্যাকার।তার সংসার তো ভাঙ্গে ভাঙ্গে অবস্তা। এদিকে মোবাইল টি নিয়ে সে ধারুন অসুখি। অনেক হতাশা নিয়ে আমার কাছে আসলে আমি মোবাইল টি রিসেট করে দিই। ফলে সব সমস্যার সমাধান হল বটে কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই আবার আমার কাছে আসল বলল যে গতকাল একটি মেসেজ আসে আর সেটি ওপেন করা মাত্র আবার মোবাইল টি আগের মত হয়েছে। আমি বললাম এবার থেকে কোন মেসেজ আসলে সেটা সহজে ওপেন না করতে। কারন অনেকে হোয়াটস এপ্স এবং অন্যান্য প্লাট ফর্ম কিংবা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে ভাইরাস বা স্পাইওয়ার ঢুকিয়ে দেয় এবং তার সব তথ্য হাতিয়ে নেয়। এভাবে একটি ভাইরাস আপনার জীবন কে দুর্বিসহ করে তুলতে পারে।

কি উপায়ে ভাইরাস আপনার মোবাইলে প্রবেশ করে?

মোবাইলে ভাইরাস প্রবেশ করানোর অনেক গুলো পদ্দতি হ্যাকার অবলম্বন করে থাকে। তার মধ্যে সবছেয়ে পরীক্ষিত উপায় মেসেজের মাধ্যমে অথবা এপ্স এর মাধ্যমে।ইমেইল, টেক্সট মেসেজ, ইমো, হোয়াটস এপ্স, লাইন কিংবা যেকোন ফেসবুক মেসেঞ্জার এর মাধ্যমে ভাইরাস আপনার মোবাইলে প্রবেশ করতে পারে। হয়ত দেখেছেন অনেক সময় আপনার মোবাইলে মেমরি ফুল এবং এই এপ্স টি ইন্সটল করুন এমন ধরনের মেসেজ আসে অনেক সময়। অথবা অনেক এপ্স এমনি এমনি ডাউনলোড হয়ে এই ধরনের সর্বনাশ গুলো করে থাকে হ্যাকার। আপনার মোবাইলের সিকিউরিটি যতেষ্ট না হলেই তবেই তারা সফল হয়। যেমন ধরুন এন্টিভাইরাস না থাকলে এবং মোবাইলের অন্যান্য সিস্টেম গুলো সেটিং টিক না থাকলে। এক্ষেত্রে প্লে স্টোরে প্লে প্রটেক্ট অন করা থাকলে অনেক ক্ষতিকারক এপ্স থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই সেটিং আপনার ক্ষতিকর এপ্স গুলো থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। আপনি চাইলে এন্টিভাইরাস পেইড ভার্সন কিনতে পারেন এগুলো আপনার মোবাইলের ভাইরাস কে সনাক্ত করে এবং ধবংস করে আপনার মোবাইলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।

আরো পড়ুনঃ যেভাবে খাদ্য বর্জ্য থেকেই তৈরি হবে সিমেন্ট

মোবাইলে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার ঢুকার আরেকটি রাস্তা হলো – আমাদের প্রয়োজনেই কিন্তু আমাদের গুগল প্লে-স্টোর এর বাইরে থেকে বিভিন্ন সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে হয়। বন্ধুরা প্লে-স্টোর এর বাইরে থেকে কোন সফটওয়ার ডাউনলোড করলেই যে ভাইরাস ঢুকবে জিনিসটা কিন্তু এরকম না। এমন কোন সাইট যে সাইট আপনি চিনেন না এবং এই সাইট সম্পর্কে আপনার কোন ধারণা নেই এরকম সাইট থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করে ইন্সটল করলে ওই সফটওয়্যারের সাথে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার ঢুকে যেতে পারে। তারপরেও যদি নিতান্তই কোন অ্যাপস ডাউনলোড করতেই হয় তাহলে সেটা একটু বুঝে শুনে করতে হবে।

কিভাবে জানতে পারবেন আপনার মোবাইল ভাইরাস আক্রান্ত?

ভাইরাস আক্রান্ত হলে অনেক সমস্যা আপনার সামনে চলে আসবে। অনেক সমস্যার মধ্যে সবছেয়ে বেশি যে গুলো পরিলক্ষিত হ্য় তার মধ্যে ফোন স্লো হয়ে যাওয়া, এপ্স গুলো সঠিক ভাবে কাজ না করা, আপনার মোবাইলের সিকিউরিটি সিস্টেম ভালভাবে কাজ না করা, যখন ইচ্ছা মোবাইলে এপ্স ডাউনলোড হয়ে যাওয়া, এক বাটন টিপ দিলে অন্য বাটনে কাজ করা, সবছেয়ে বড় যে সমস্যা হয় তা হল আপনার মোবাইলের সব তথ্য চুরি হওয়া, এবং সর্বোপরি আপনার মোবাইলে আপনার নিয়ন্ত্রনে না থাকা। আপনার তথ্য চুরি হওয়া মানে বুঝতে পারছেন যেমন ধরুন আপনার ব্যাংক কার্ড এর পিন কোড, বিকাশ এর পিন চুরি হওয়া, ইমো, ফেসবুক হোয়াটস আপ সহ অনেক কিছুর পাসওয়ার্ড এবং ইউজার নেম চুরি হওয়া যা আপনার জীবনকে বিষন্ন করে তুলতে পারে।

যেভাবে ভাইরাস থেকে আপনার মোবাইলকে সুরক্ষিত রাখবেন

এতক্ষন তো আলোচনা করলাম কিভাবে আপনার মোবাইল ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারে এবার দেখা যাক কিভাবে আমাদের মোবাইল কে এই ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখতে পারি।

আমরা প্রথম যে ভুলটা করি তা হল প্লে স্টোর থেকে ফ্রি এন্টিভাইরাস ডাউন করি এবং সেটা দিয়ে স্কেন করেই ধরে নিই যে আমাদের মোবাইল এখন পুরোপুরি নিরাপদ। কিন্তু না এই ফ্রি এন্টিভাইরাস গুলো আপনার মোবাইলের কোন নিরাপত্তা দিতে পারে না। বরং আপনার মোবাইলের জায়গা দখলে নিয়ে আপনার মোবাইল কে আরো বেশি স্লো করে দেয়। অবশ্যই আপনি চাইলে কিনে নিতে পারেন যা আপনার মোবাইল কে অনেক বেশি সুরক্ষা দিতে পারে। মনে রাখবেন কোন ফ্রি এন্টিভাইরাস আপনার মোবাইল কে নিরাপত্তা দিতে পারবেনা।

আরো পড়ুনঃ যে কারনে স্মার্টফোন কোম্পানীগুলো চিপ তৈরি করেনা।

ফোন কে রিসেট করে দিলে অনেক কিছুই সমাধান হয়ে যায়। আপনার ফোন নতুন যেভাবে ছিল সেভাবে হয়ে যায় কিন্তু এক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হল আপনার ফোনে থাকা কন্ট্রাক নাম্বার ফটো ভিডিও ডিলিট হয়ে যায়। তাই অনেকেই এই কাজটি করতে চাইনা। আবার এটা একটি ঝামেলার বিষয় কারন কিছুদিন পর পর যদি এভাবে রিসেট করতে হয় তবে সবকিছু বেকআপ রাখতে হয় অন্যথায় সব ডাটা হারাতে হয়।

Android মোবাইলের কিছু সেটিং চেঞ্জ করলে আপনার মোবাইল অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকবে

স্মার্টফোন গুলোতে সবছেয়ে বেশি ভাইরাস ঢুকে ব্রাউজার এর মাধ্যমে। তাই যে ব্রাউজার গুলো নিরাপদ না তা ব্যবহার না করাই ভাল। এক্ষেত্রে আমার সবছেয়ে বেশি পছন্দ Google Chrome ব্রাউজার। কারন এটার প্রাইভেসি সেটিং এর মাধ্যমে আরো বেশি নিরাপদ করা যায়। তাহলে চলুন দেখি এই কাজ টা কিভাবে করা যায়।

১. প্রথমে আপনার ফোনে থাকা Google Chrome ওপেন করে নিন।

virus

২. এবার এই ব্রাউজার এর সেটিং পরিবর্তনের জন্য বাম পাশে থ্রি ডট এ ক্লিক করুন।

৩. ওখান থেকে সেটিং ট্যাবে ক্লিক করুন

৪. সেটিং ওপেন করলে অখান থেকে প্রাইভেসি এর উপর ক্লিক করুন

৫. প্রাইভেসি ওপেন করার পর এবার এইখানে দেখবেন অনেক গুলো সেটিং টিক মার্ক করা থাকবে তার উপর আপনি safe browsing উপর টিক মার্ক করে দিন।

৬. এবার বেক এ গিয়ে সেটিং অপশন থেকে সাইট সেটিং এ যান

৭. এবার সেখান থেকে Pop-up rediirect এবং Ads এর উপর ক্লিক করুন যদি অন করা থাকে তাহলে অফ করে দিন।

৮. এবার প্লে স্টোর কে নিরাপদ করে নিই। কারন এখান থেকে অনেক এপ্স ডাউনলোড হয় যা আমাদের মোবাইলের সিকিউরিটি ভেঙ্গে দেয়। এই কাজ টি করার ফলে আমাদের মোবাইলে অনিরাপদ এপ্স গুলো স্ক্যান করে এবং আমাদের মোবাইল অধিক নিরাপদ করে।

৯. প্লে স্টোর ওপেন করার পর এর সেটিং থেকে প্লে প্রোটেক্ট এ যান

১০. এবার স্ক্যান করে ফেলুন আপনার মোবাইলে কোন ক্ষতিকারক এপ্স থাকলে এখানে থেকে দেখতে পাবেন। এবং এপ্স গুলো চিন্নিত করার পর আপনি নিজেই এপ্স গুলো আপনার মোবাইল থেকে ডিলেট করে দিন।

হ্যালো বন্ধুরা এভাবে নিজের স্মার্ট ফোন কে নিরাপদ করে নিন। আর যদি একান্তইএত ঝামেলা করতে না চান তাহলে যেকোন এন্টি ভাইরাস এর পেইড ভার্সন প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে আপনার মোবাইলের নিরাপত্তা তার হাতে ছেড়ে দিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Shares