যে কারনে স্মার্টফোন কোম্পানীগুলো চিপ তৈরি করেনা

chip

আপনি জেনে অবাক হবেন যে সারা পৃথিবীতে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানী তাদের নিজস্ব চিপ বা প্রসেসর তৈরি করে। কিন্তু বেশির ভাগ কোম্পানী চিপ বা প্রসেসর তৈরি করতে পারেনা বা তারা করতে চাইনা। আলাদাভাবে একটি কাজের জন্য কোম্পানিগুলো চিপ তৈরি করতে পারে যেমন ধরুন ভিডিও চিপ, ইমেজ চিপ, চার্জিং চিপ ইত্যাদি। বর্তমানে শুধুমাত্র Huawai, Samsung, এবং Apple কোম্পানী তাদের নিজস্ব চিপ বা প্রসেসর তৈরি ও আস্তা রাখতে পারে। Xiaomi এর ও নিজস্ব চিপ আছে তবে তারা অতটা সফলতা পায়নি। Xiaomi তাদের নিজস্ব চিপ S1 Surge নিয়ে অনেক বছর ধরে কাজ করছে কিন্তু সফলতা পাচ্ছেনা।

Advertisement
Chip

সিংগেল ফাংশান চিপ যেমন ইমেজ চিপ, ভিডিও চিপ কিংবা চার্জিং চিপ তৈরি করা কটিন কিছু না, সব গুলো ব্র্যান্ড চাইলেই সিংগেল চিপ তৈরি করতে পারে। কিন্তু প্রসেসরের সাথে যুক্ত হয়ে ইমেজ চিপ ইমেজ কে অপটিমাইজ করা অথবা ভিডিও চিপ প্রসেসরের সাথে যুক্ত হয়ে ভিডিও কে অপটিমাইজ করার মত দুঃ সাধ্য কাজ গুলো করতে পারেনা। বর্তমানে সবগুলো কোম্পানী তাদের নিজস্ব চিপ নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে কিন্তু সেটা কি আসলেই সম্ভব? বড় বড় কোম্পানী গুলো নিজের চিপ ব্যবহার করতে চাইতেই পারে কিন্তু তা একটি অনেক জটিল এবং বিলিয়ন ডলার ইনভেস্টমেন্ট এর ও ব্যাপার আছে।

কেন কোম্পানি গুলো নিজস্ব চিপ তৈরি করতে পারেনা?
Processor একটি জটিল বিষয়ঃ

বর্তমানে প্রসেসর গুলো সিংগেল ফাংশান হলে হয় না। প্রতিটি চিপেই সম্পুর্ন একটি সিস্টেম থাকতে হয়। এক্ষেত্রে Apple A15 প্রসেসর একটি উদাহরন হতে পারে। এটি একটি CPU নয় এটি একই সাথে গ্রাফিক্স কার্ড, ইমেজ প্রসেসর, ওয়ারলেজ Baseband, AI প্রসেসর, video codecs, এবং system caches সহ আর ও অনেক কাজ করে। প্রতিটি পার্ট ডিজাইন করা মোটেই সহজ কাজ নয় এরপর আবার প্রতিটি পার্ট কে এক সাথে কম্ভাইন্ড করা আরো জটিল বিষয়। এর জন্য ভাল উদাহরন হতে পারে Baseband। Apple অনেক বছর ধরে Closed-Loop Ecology নিয়ে কথা বলে আসছিল এবং ফাইনালি M1 প্রসেসর নিয়ে আসে। তবে তারা ও এই প্রসেসর 5G তে Baseband কাজ করে এমন ভাবে তৈরি করতে পারেনি। প্রথম দুই বছর ইন্টেল এর সাথে চুক্তি করে আবার তারা Qualcomm এর সাথে চুক্তি করে এবং বর্তমানে এই কোম্পানীর প্রসেসর ইউজ করে।

কোন একটি মডিউল ডিজাইন করতে পারা শুধুমাত্র একটি দিক। এটিকে অন্য মডিউল গুলোর সাথে কম্ভাইন্ড করা অনেক জটিল একটি বিষয়। মডিউল ডিজাইনের পর

  • পাওয়ার কনশাম্পশনের এবং পারফরমেন্স এর মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হয়।
  • প্রতিটি পার্টের সাথে প্রতিটি পার্ট কানেক্ট করতে হয়।
  • সঠিক ডাটা পথ নির্ধারন করতে হয়।
  • একটার সাথে আরেকটার সমতা রেখে লে আউট ডিজাইন করতে হয়।
  • এক্ষেত্রে ন্যানো প্রযুক্তির লিকেজ স্ট্যাটিক পাওয়ার খরচ নিয়ন্ত্রন করতে হয়।
  • প্রসেস অপ্টিমাইজ করতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হয়।
  • হাইস্পিড সিগনালের সাথে নয়েজ এবং কম্পিটিবিলিটির মত বিষয় ডিল করতে হয়।

মডিউল ডিজাইন থেকে শুরু করে একটার সাথে আরেকটা কম্ভাইন করা কতটা জটিল কাজ আশা করি এতক্ষনে আপনারা বুজতে পেরেছেন। তবে কি কোন কোম্পানি এই প্রসেসর ডিজাইনের কাজ গুলো করেনা ? অবশ্য করে তবে তা অন্য কোম্পানীর সাহায্য ছাড়া করতে পারেনা। Samsung, Huawei, Apple কি চিপ তৈরি করতে পারেনা। হ্যা পারে কিন্তু তাদের কে অন্য কোম্পানির সাহায্য নিতে হয়। Huawei ২০০৯ সাল থেকেই কঠোর পরিশ্রম করে আসছে ফাইনালি তারা সফল হয়েছে। কিন্তু আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার কারনে তারাও বেশ চাপে আছে, কারন এই চিপ তৈরিতে তারাও আমেরিকান অনেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। চিপ এই শীতল লড়াই নিয়ে আমি আরো আর্টিকেল লিখেছি চাইলেই পড়ে নিতে পারে এখান থেকে

board, circuits, trace-1709192.jpg
প্রসেসর তৈরি করা বেশ ব্যয়বহুলঃ

অধিকাংশ কোম্পানি যারা কিনা চিপ মার্কেটে ঢুকতে চাই বা চিপ তৈরি করতে চাই তাদের আর্থিক ক্যাপাসিটি থাকেনা। কারন এতে যে পরিমান মুলধন দরকার তা অনেকের থাকেনা। ধরুন কোন কোম্পানি চিপ তৈরি করতে চাই তার জন্য কিছু লো নিয়োগ দেওয়া হল বিষয়টি কিন্তু এরকম নয়, চিপ তৈরিটি কয়েকশ লোক নিয়োগ দিতে হবে এবং এর জন্য মোটা অংকের বেতন অফার করতে হবে তবেই এই ধরনের এক্সপার্ট আপনি নিয়োগ দিতে পারবেন। অন্যতায় অভিজ্ঞ লোক ছাড়া আপনি কোন কাজ স্টার্ট করতে পারবেন না।

হিউম্যান রিসোর্স ছাড়াও আপনাকে ARM পে করতে হবে এবং লাইসেন্স অন্যান্য ফি অনেক পে করতে হবে। এছাড়াও আপনি আন্দাজ করতে পারবেন না আরো কত দিক আপনাকে পে করতে হবে। এর পর কখন আপনি এই জিনিস বানাবেন বা সাক্সেস হবেন তার ও নির্দিষ্ট কোন সময় এর সীমা নেই। বেশ কিছু সময় এবং এক্ষেত্রে বিলিয়ন ডলার খরচ করে আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। একটি মোবাইল প্রসেসর বানানো এবং এতে কি পরিমান ইনভেস্ট করতে হতে পারে বা কত সময় পর আপনি সাকসেস হবেন তা কেউ বলতে পারেনা।

এই জন্য সম্ভবত চিন এবং আমেরিকার মাঝে একটি শীতল যুদ্ব শুরু হয়েছে যে বিশ্বের অধিকাংশ চিপ তৈরি করে চিনের পাশের দেশ তাইওয়ান এবং আমেরিকা একে নিজের কব্জায় নিতে চাই কিন্তু চিন কি সেটা হতে দেবে?

আপনি নিশ্চয় এতক্ষনে আন্দাজ করতে পেরেছেন কি পরিমান খরচ হতে পারে একটি চিপ বানাতে। বিষয়টি আরো পরিষ্কার করার জন্য আমরা উদাহরন টেনে আনতে পারি। Huawei তাদের HiSilicon Kirin এর পেছনে গত ১০ বছরে ৭৫.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। ২০১৯ সালেও তাদের বিনিয়োগ এর পরিমান ছিল ২০.০৭ বিলিয়ন ডলার। ফাইনালি তারা Kirin series SoC তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে এবং Apple এর Qualcomm এর সাথে প্রতিযোগি হিসাবে তৈরি হয়েছে।

বেশি বিনিয়োগ অল্প ফলাফলঃ

স্মার্টফোন প্রসেসর গুলো তৈরিতে একাধিক প্রক্রিয়ার মাঝে যেতে হয় কিন্তু ফলাফল খুবই সামান্য হয়। ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য ভিন্ন টিম তৈরি করতে হয়। কয়েক বছরের বিনিয়োগ কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আপনি এর ফল পাবেন খুবই সামান্য। স্মার্টফোন কোম্পনিগুলোর মাঝে এত সময় এবং সক্ষমতা থাকেনা তাই তারা এগুলো তৈরির জন্য প্রস্তুত থাকেনা অন্য কোম্পানির চিপ ব্যবহার করতে বেশি আরাম বোধ করে। তারা বেশি বেশি ফোন ডিজাইনের দিকে মনোযোগি থাকতে চাই।

প্রসেসর তৈরিতে যে দুটি কোম্পানি ব্যাপক ভাবে সফল এবং প্রায় সবকটি স্মার্টফোন কোম্পানি ইউজ করে তাদের প্রসেসর তারা হল Qualcomm এবং Mediatek. Apple তাদের বেশির ভাগ ফোনে এই চিপ টিই সফলভাবে ব্যবহার করে আসছে। তবে Samsung ও বেশ এগিয়ে আছে পুরু মার্কেট জুড়ে। পরিশেষে বলা একটা কথা সবাই বুঝতে পেরেছেন হয়ত কেন স্মার্টফোন কোম্পানি গুলো তাদের নিজস্ব চিপ বা প্রসেসর তৈরি করেনা।

manjur
Md Manjur Alam Writer and Web Designer

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Shares